খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ
- আপলোড সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে চারপাশে যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। মূল সড়ক থেকে অলি-গলি, কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় এমনই জনতার ঢল নেমেছিল। পুরো রাজধানী পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
জানাজায় অংশ নেওয়া জনসাধারণ বলছেন, এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজা। তাদের মতে, এতদিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজাকে সর্ববৃহৎ বলা হলেও সেই রেকর্ডটাও আজকে ভেঙেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা স¤পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এরপর জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে চিরশায়িত করা হয়।
মিরপুর ২ নম্বর থেকে জানাজা পড়তে এসেছিলেন বৃদ্ধ রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের জানাজা পড়েছি। আমার মতে, সেটাই এতদিন সর্ববৃহৎ ছিল। কিন্তু আজ সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা।
ঢাকা মহানগর তাঁতী দলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক দেওয়ান মো. ইসমাইল বলেন, আমি মনে করি এটাই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজা। এতো লাখ লাখ মানুষের সমবেত আমি আর কখনো দেখিনি।
তিনি বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের জানাজা পড়েছি। তখন চীন মৈত্রী বা তার আশপাশ এলাকা জলাশয় ছিল, সেখানে মানুষ অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু আজ বিজয় সরণি, রোকেয়া সরণি, সংসদ ভবন এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত জনগণ জানাজায় অংশ নেন।
দেওয়ান মো. ইসমাইল স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে আসাদ গেটের ওই পাশে আমার আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে জানাজায় অংশ নেই। আজ তারই সহধর্মিণীর জানাজায় অংশ নিলাম। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। তবে জন স্রোতই প্রমাণ দিয়েছে - এটা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজা।
বুধবার দুপুর ২টায় জানাজা শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। একপর্যায়ে মানুষের বিস্তৃতি আশপাশের এলাকা বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, শেরেবাংলা নগর, কলেজগেট, আসাদগেট ও শাহবাগসহ অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে।
ভবনের ছাদ ও ওভার ব্রিজসহ যে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েছেন জানাজা। চাপ ঠেলে সময় মতো আসতে না পেরে অনেকে জানাজা পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, নিকট অতীতে এত বড় জানাজা দেখেননি দেশবাসী। জানাজায় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক